বুধবার, ১৫ Jul ২০২০, ০৪:২৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
আসামের এনআরসি তে বাদ পড়লো ১৯ লক্ষ মানুষের নাম

আসামের এনআরসি তে বাদ পড়লো ১৯ লক্ষ মানুষের নাম

ইত্তেফাক২৪ঃ ৩১ আগস্ট: অসমের চূড়ান্ত এনআরসি তালিকায় সাড়ে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গেল। ১৯৫২ সালের পর আজই প্রথম আবার অসমে নাগরিক পঞ্জীকরণ তালিকা (এনআরসি) প্রকাশিত হল। পূর্বে প্রকাশিত খসড়া এনআরসি তালিকায় বাদ পড়েছিল ৪১ লক্ষ মানুষের নাম। তখন থেকেই অলোড়ন শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে বহু প্রকৃত ভারতবাসীর নামও এই খসড়া তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আজ ছিল সেই সময়সীমার শেষ দিন। স্বভাবতই টেনশন তুঙ্গে ওঠে। সেই উত্তেজনার মধ্যেই আজই সকাল ১০টায় অনলাইনে প্রকাশিত হয় এনআরসি তালিকা। দেখা যায়, অসমের প্রায় ৩ কোটি ১১ লক্ষ মানুষের নাম স্থান পেয়েছে প্রকৃত নাগরিকের তালিকায়। বাদ পড়েছে সাড়ে ১৯ লক্ষ নাম। এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে কংগ্রেস সহ বিভিন্ন বিরোধী দল তো বটেই, খোদ শাসক দল বিজেপির নেতা ও মন্ত্রীরা পর্যন্ত ভুলে ভরা তকমা দিয়ে তা বর্জনের ডাক দিয়েছেন।
অসমের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এতদিন ছিলেন এনআরসির সবথেকে বড় সমর্থক। আজ তিনি বলেছেন, এই এনআরসি তালিকা অসমের লক্ষ্যপূরণে সহায়ক হবে না। কারণ একদিকে যেমন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের নাম বাদ গিয়েছে, তেমনই আবার বহু অনুপ্রবেশকারীর নামও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। বস্তুত যে সফটওয়্যার সংস্থা এই তালিকা তৈরির দায়িত্বে ছিল তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে বিজেপিই। আজ হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন এনআরসির পরিবর্তে আমাদের এবার অন্য কোনও ব্যবস্থা শুরু করতে হবে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে। এদিকে এনআরসি যে ভুলে ভরা একটি নথি হতে চলেছে তার আঁচ পেয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল বলেছেন, যে ১৯ লক্ষ নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ গেল তাদের আদৌ বেআইনি নাগরিক বলা যাবে না এখনই। কারণ নিজেকে ভারতীয় প্রমাণের সব প্রক্রিয়াই যখন সমাপ্ত হয়ে যাবে তখনই কাউকে বেআইনি বাসিন্দা বলা যাবে। প্রশ্ন হল, তাহলে এরপর কী? জানা যাচ্ছে এই বাদ পড়া ১৯ লক্ষ মানুষের সামনে প্রথম রাস্তা হল আগামী চারমাসের মধ্যে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা। তাঁদের কাছে থাকা নথি ও তথ্যপ্রমাণ নিয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার পর একে একে শুনানি শুরু হবে। যতদিন না এই প্রক্রিয়া শেষ হবে ততদিন তাঁদের সন্দেহভাজন আখ্যা দেওয়া গেলেও অনুপ্রবেশকারী বলা যাবে না।
অর্থাৎ আজ এনআরসি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর আগামীদিনে এই সাড়ে ১৯ লক্ষ মানুষের সামনে একটাই পথ। ট্রাইব্যুনাল, আদালত, প্রশাসনিক দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে নথি সংগ্রহ করে প্রমাণ করা যে তারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগেই ভারতে এসেছেন। সেটা যে বহু সময়সাপেক্ষ বিষয় তা নিয়ে সংশয় নেই। কারণ সাড়ে ১৯ লক্ষ মানুষের আবেদন যাচাই করা এবং তার চূড়ান্ত মীমাংসা করা এক বিপুল সময়সাপেক্ষ কাজ। অসমের এনআরসি তালিকা প্রকাশের পরই এখন রাজ্যে রাজ্যে এনআরসি চালুর প্রক্রিয়া নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। আজ দিল্লির বিজেপি সভাপতি জানিয়েছেন, এরপর এনআরসি চালু করতে হবে দিল্লিতে। মনোজ তিওয়ারি বলেছেন, দিল্লির সবথেকে বড় সমস্যাই হল বহিরাগত ও অনুপ্রবেশকারীরা। তবে সবার আগে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিকেই টার্গেট করা হচ্ছে। তাই এরপর কি বাংলা? এই প্রশ্ন উঠছে।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© All rights reserved © 2019 Ittefaq24.Com
Design & Developed BY Host R Web