শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
গুজরাত উপকূলে সতর্কতা! হামলা চালাতে জলপথে ঢুকেছে পাক কমান্ডো

গুজরাত উপকূলে সতর্কতা! হামলা চালাতে জলপথে ঢুকেছে পাক কমান্ডো

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি, ২৯ আগস্ট: কঠোর সতর্কতা জারি হয়েছে আরব সাগর তীরবর্তী গুজরাতসহ একাধিক রাজ্যের উপকুলবর্তী এলাকায়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা গোপন রিপোর্ট পেয়েছে, জলপথে পাকিস্তান সশস্ত্র কমান্ডোবাহিনী ও প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের ঢুকিয়ে ভারতের উপর বড় হামলার প্ল্যান করেছে। সেই কমান্ডোবাহিনী ইতিমধ্যে রওনাও দিয়েছে সাবমেরিনে চেপে। কয়েকজন ইতিমধ্যে ঢুকে পড়েছে বলেও খবর। ওই কমান্ডোবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে খোদ পাকিস্তানের নৌবাহিনী। এই রিপোর্ট পেয়েই গুজরাতের কচ্ছ এলাকায় তিনটি বন্দর অঞ্চলে জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স এবং ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ড যে কোনওরকম নাশকতা রুখতে প্রহরা বাড়িয়ে দিয়েছে। গুজরাতের কচ্ছ এবং সার ক্রিক অঞ্চলে ছোট ছোট নৌকায় চেপে এসে ভারতে প্রবেশের ছক কষেছে পাকিস্তানের ওই হানাদারবাহিনী। হানাদারবাহিনী ইতিমধ্যেই হেরামি নালা উপকূলে হাজির হয়ে অপেক্ষা করছে বলেও বিএসএফ রিপোর্টে জানিয়েছে। গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে আদানি গোষ্ঠী। সরকারিভাবে সতর্কতা জারির পাশাপাশি আদানি গোষ্ঠী পরিচালিত গুজরাতের তিনটি বন্দরেও ওই গোষ্ঠী বিশেষ অ্যালার্ট জারি করে বলেছে যে প্রত্যেক ভেসেলের উপর নজর রাখতে হবে। দীনদয়াল ও কান্দা বন্দরকে বিশেষ সুরক্ষা দিতে নতুন করে উপকূল রক্ষী বাহিনী মোতয়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর পক্ষ থেকে এই হাই অ্যালার্টের পাশাপাশি কিছুদিন আগেই ভারতীয় নৌসেনার পক্ষ থেকেও একটি সতর্কতা জারি করে জানানো হয়েছিল পাকিস্তানের দিক থেকে জলপথে হামলার গোপন প্ল্যান হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদী হামলার ওই কৌশলটি হবে সাবমিরিন জাতীয় কোনও জলযানে এসে বন্দর এলাকায় প্রবেশের আগেই ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় করে ভারতীয় উপকূলে ঢুকে পড়া। প্রসঙ্গত ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর ঠিক এভাবেই প্রথমে একটি বৃহৎ ট্রলারে চেপে এসেছিল ১০ জন সন্ত্রাসবাদী। আরব সাগরে ভারতীয় সীমানার মধ্যে ঢুকে পড়ে ওই পাকিস্তানের আল হোসেইনি ট্রলারটির মধ্যে থাকা সন্ত্রাসবাদীরা একটি ভারতীয় মৎস্যজীবীদের ট্রলারের কাছে সাহায্য চাওয়ার অছিলায় কাছে ডেকে ওই ট্রলারে থাকা প্রত্যেক মৎস্যজীবীকে হত্যা করে সেটি নিয়েই ঢুকে প্রথমে ঢুকে পড়েছিল মুম্বই উপকূলে। আর তারপর একটি ডিঙি নৌকায় ১০ জন চেপে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নেমেছিল মুম্বইয়ের তটে। তাদের সঙ্গে ছিল স্যাটেলাইট ফোন। যে ফোনের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল লস্কর ই তোইবা প্রধান হাফিজ সঈদ। ওই জঙ্গিরা এরপর টানা চারদিন ধরে মুম্বইয়ে হত্যালীলা চালিয়েছিল। আজও তাবৎ প্রমাণ ও নথিপত্র দেওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান অভিযুক্ত হফিজ সঈদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাই নেয়নি।
এবারও ঠিক সেভাবেই আবার আরব সাগরের মাধ্যমেই আরও নিপুণ ও সামরিকবাহিনীর হাতে প্রশিক্ষিত কমান্ডোরা ঢুকে পড়তে পারে বলে গোয়েন্দাদের কাছে সংবাদ। আজ এই সংবাদ নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রকও। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেছেন, আমরা বারংবার পাকিস্তানের বার্তা দিচ্ছি তারা যেন একটি সুস্থ দায়িত্বশীল প্রতিবেশীর মতো আচরণ করে। তাদের এই বার্তা দেওয়া সত্ত্বেও অবিরত পাকিস্তান নানাবিধ উপায়ে ভারতে অস্থিরতা তৈরির প্রয়াস চালাচ্ছে।
ভারত আজ আরও বলেছে, সন্ত্রাসবাদী ঢোকানোর এই খেলা বন্ধ করুক পাকিস্তান। আর সেটা না হলে তাদের পক্ষেও পরিণাম ইতিবাচক হবে না। বিদেশমন্ত্রকের এই মন্তব্য একপ্রকার হুঁশিয়ারি বলা যায়। গুজরাত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে বলা হচ্ছে পাকিস্তান থেকে আসা কমান্ডোদের প্ল্যান হচ্ছে, যে কোনওমূল্যে ভারতে অশান্তি ছড়ানো। গুজরাতের জামনগরের রিলায়েন্স পরিচালিত তৈল শোধনাগার রয়েছে। ভাদেনার উপকূলে রাশিয়ার একটি সংস্থার তৈল শোধনাগার রয়েছে। আদানিদের তিনটি বন্দর রয়েছে। এর প্রতিটিতেই হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হতে পারে। একইভাবে গুজরাতে ঢুকে সাম্প্রদায়িক হানাহানিতে ইন্ধন দেওয়ার চেষ্টাও করা হতে পারে। সম্প্রতি ভারতীয় নৌসেনার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল জয়েশ ই মহম্মদ প্রশিক্ষণ দিয়ে কমান্ডো পাঠাতে পারে কচ্ছ এলাকায়। আর ঠিক একই রিপোর্ট পাঠিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাও। গুজরাতের পাশাপাশি তামিলনাড়ু এবং কেরলে পৃথক হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে। ওই অ্যালার্টে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুতে ৬ জনের একটি সন্ত্রাসবাদী দল ঢুকে পড়েছে। এরা লস্কর জঙ্গি। আর কেরলের উপকুলবর্তী এলাকায় প্রবল বর্ষার সুযোগ নিয়ে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা একটি বিশেষ বাহিনীর। ওই বাহিনীর কোড নেম হচ্ছে টাইগার। উ঩ল্লেখ্য একদিকে এই সন্ত্রাসবাদী হামলার ছক এবং অন্যদিকে গতকালই পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে। ২৯০ কিলোমিটার ক্ষমতাসম্পন্ন ওই ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় থাকছে ভারতের আরব সাগরের তাবৎ পোর্ট।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© All rights reserved © 2019 Ittefaq24.Com
Design & Developed BY Host R Web